রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তিতে জোর তাগাদা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে সামনের দিনগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে পণ্যটির দাম কমেছে প্রায় ১ শতাংশ। সব মিলিয়ে বিভিন্ন বাজার আদর্শে সপ্তাহজুড়ে পণ্যটির দরপতন হয়েছে ৩ শতাংশের কাছাকাছি। খবর রয়টার্স।
বাজারে পণ্যটির দামে বড় এক প্রভাবক হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে জ্বালানি তেলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের চাহিদা কম। এটিও দাম কমার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন তারা।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত শুক্রবার ৮২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬২ ডলার ৫৬ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলে ৯৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৫৮ ডলার ৬ সেন্টে। এছাড়া সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি চুক্তি সংঘটিত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে। বর্তমানে রুশ জ্বালানি তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকওইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। চুক্তি হলে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের শান্তি পরিকল্পনা নাকচ করলে দেশটি মর্যাদা ও স্বাধীনতা হারাতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব সংঘাত সমাধানের ভিত্তি হতে পারে। তবে কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করলে রাশিয়ার সেনারা আরো অগ্রসর হবে।
এ বিষয়ে ডয়চে ব্যাংকের জিম রেইড জানিয়েছেন, ‘নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দিনেই শান্তি আলোচনার খবর এসেছে। যদিও চুক্তি বাস্তবায়ন হতে আরো সময় প্রয়োজন হতে পারে।’
এদিকে ডলারের বিনিময় হার ছয় মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এটির জ্বালানি তেলের দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমানোর বিষয়ে ডালাস ফেডের প্রেসিডেন্ট লরি লগান বলেছেন, ‘এ সময়ের জন্য সুদহার স্থিতিশীল রাখাই যুক্তিসংগত।’
বোস্টন ফেডের সুসান কলিন্স মনে করছেন, এখন সুদহার হ্রাসের প্রয়োজন নেই।
নিউইয়র্ক ফেডের জন উইলিয়ামস বলেছেন, স্বল্পমেয়াদে সুদহার কমানো যেতে পারে। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করবে।